Summary
লেখক চৈত্রের পল্লবের রূপ ও রঙের রহস্য উঠে এসেছে বিমুগ্ধ চোখে। শাখা-বৃত্তে মরে যাওয়া পত্রের মাঝে অপ্রকাশিত অনুভূতি রয়েছে, এবং উচ্ছ্বসিত বেদনাটি সেই সবুজের শিশুর প্রতি আচ্ছন্ন।
লেখক শোনার জন্য উন্মুখ রয়েছেন, অতীতের কাহিনীগুলি, যা সৃষ্টির গভীরে লুকানো। অনুভূতির কিছু কথা আছে যা হৃদয়ে আন্দোলন সৃষ্টি করে, যদিও পুরোপুরি বুঝতে পারেননি।
তবুও, স্বপ্নময় অনুভূতিগুলো লেখকের হৃদয়ে একটি আকর্ষণ সৃষ্টি করে। তিনি আরও আলো, অন্তরের আলো অন্বেষণ করছেন।
শাখে শাখে চৈত্রের পল্লবে
দেখেছি বিমুগ্ধ চোখে সবুজের বর্ণ সমারোহ;
সে-বর্ণের কিছু আছে রহস্য জটিল
কিছু আছে অন্তরের কথা ।
পত্রঝরা শাখা-বৃত্ত-প্রাণে
কী অব্যক্ত অঅনুনয় ছিল,
রুক্ষ শাখা ঊর্ধ্বশূন্যে কি কথা শোনালো,
উচ্ছ্বসিত বেদনার প্রাণস্পন্দ নিয়ে
কোথা থেকে এলো এই সবুজের শিশু,
তার কিছু ইতিহাস অদৃশ্য অক্ষরে আছে লেখা ।
সে-দুয়ে নীরব কাহিনি
রাত্রিদিন বারবার করে
শুনতে চেয়েছি আমি উন্মুখ শ্রবণে ।
শোনার অতীত যত কথা
দেখার অতীত যত অপ্রতিম রূপ
তাই দিয়ে রূপে-রসে সৃষ্টির নিভৃত মর্মবাণী
লিপিবদ্ধ আছে সঙ্গোপনে ।
সে-রূপের কিছু আলো পেয়েছি হৃদয়ে
কিছু কথা শুনেছি কখনো
মর্মের শ্রবণে
বুঝিনি অনেক কিছু তার ।
যেটুকু বুঝেছি তাও কথা নেই শোনাবার মতো
-তবু সেই সুনিশ্চিত বাণী
অস্পষ্ট স্বপ্নের মতো অনুভূতি ঘিরে
স্পর্শ তার রেখে যায়, প্রলোভন রেখে যায় আরও,
আমি তাকে পাইনি আমার
চেতনার সহজ সন্ধানে ।
তবু তাকে দেখবার বুঝবার অশেষ বিস্ময়ে
রুদ্ধদ্বার হৃদয়ের কাছে
অনুনয় করি বারংবার :
আলো চাই— আরও আলো, অন্তরের, তীব্রতম আলো ।